Skip to main content

একটা শহর, কিংবা একটা সময়...

আলো ছড়াতে কার্পণ্য করা নিয়ন বাতির দিকে চেয়ে,
কারও সাথে সুক্ষ একটা মিল খুঁজে পাই
সব বাতিই আধারে জ্বলে,
কিন্তু কয়টাকে সুন্দর বলা যায়?
অনেক কিছুই হারিয়ে গেছে...

প্রচণ্ড চাপের প্রাকৃতিক বাতাসের স্রোতে
ডিজেলের ধোয়া অনেক আগেই ভেসে গেছে
স্মৃতি-কাতর দীর্ঘশ্বাস তাই ঠোটে উষ্ণতা দেয়া আগুনের সাথে
কুণ্ডলী পাকিয়ে মিলিয়ে যায় প্রকৃতির বাতাসে।
অনেক কিছুই হারিয়ে গেছে...

সেই প্রতিদিনের পাগলের মত আড্ডা,
এখন অনেকটাই অনাকাঙ্ক্ষিত সামাজিকতা রক্ষা।
বার বার করে যাওয়া ঠাট্টাগুলোও এখন খুব তেতো, স্বাদহীন।

মানুষ গুলো,
সময় গুলো,
এখন আর নেই।
অনেক কিছুই হারিয়ে গেছে...

চায়ের দোকানগুলো সন্ধে নামতেই জন-বিহীন হয়ে যায়,
রাস্তাটাও তারই সাথে তাল মিলায়।

স্মৃতির অলি-গলি-ঘুপচি, দুই বাগানের ফাঁকে অকারণ হেটে বেড়ানো
পুরনো আড্ডার জায়গাগুলো নেড়ে চেড়ে দেখা
কিছু একটা মনে পরতে আনমনে হেসে ওঠা।
গলির দিকে অকারণে চেয়ে থাকা।
আবারও হারিয়ে যাওয়া সেই গলিতে।
অনেক কিছুই হারিয়ে গেছে...

শুধু অনুভূতি ভরা স্বপ্নগুলো ঠিকই রয়ে যায়...

Comments

Popular posts from this blog

জেনারেশন গ্যাপ

জেনারেশন এ পরিবর্তন আসে অবশ্যম্ভাবী হয়ে। এর কোন ব্যতিক্রম নাই। কেউ চাক বা না চাক এই প্রক্রিয়া চলবেই। ভাল লাগুক বা মন্দ লাগুক কেউ সময় কে থামাতে পারবে না। এর মধ্যে বিতর্ক এসে যায় ভাল পরিবর্তন আর মূল্যবোধের নিম্নগামীতা নিয়ে। কিন্তু আমি সেসব নিয়েও কথা বলছি না। আমি বলছি কারণ যুগে যুগে সব মানুষের অপ্ত বাক্য ‘ দুনিয়াটা রসাতলে গেল ’। আমার দাদা আমার দাদী কে ভীষণ ভালোবাসতেন এবং তার মৃত্যুশোকে সন্ন্যাসী হন। তিনি তখন অবশ্য ছিলেন যুব-সমাজ রসাতলে যাবার অন্যতম উদাহরণ। এখন অবিশ্বাস্য লাগতেই পারে কিন্তু তখন কেউ তাকে ছেড়ে কথা বলেনি। আমার বাবা রবীন্দ্র সঙ্গীত এর ভীষণ ভক্ত ছিল কিন্তু তার সময় এটা ছিল সঙ্গীত এর নামে অশ্লীলতা। আব্বুকেও সিনেমা হলে সিনেমা দেখাতে যাবার জন্য অসংখ্যবার শুনতে হয়েছে যুব-সমাজ রসাতলে গেল। এসব সিনেমা কে এখন আমরা আর্ট পিস এর সম্মান দেই। এখন সবার গা-জ্বালা করা একটা সর্বনাম হল ডিজুস জেনারেশন বা আধুনিক ইয়ো পোলাপান। সবার মত অনুযায়ী তাদের কোন শেকড়ই নাই এবং এরা অন্ধভাবে পশ্চিমা সভ্যতা অনুকরণ ও অনুসরণ করে। কিন্তু সময় যখন সব বদলায় তখন সময় এর সাথে যুদ্ধ করা; আমি ঠিক কিন্...

দুঃসময় বা দুঃস্বপ্নের সময়...

কেন যেন মনে হচ্ছে দুঃস্বপ্ন দেখছি, আর প্রচন্ড অসহায় হয়ে চাচ্ছি, কেউ আমার ঘুমটা এক ঝটকায় ভেঙ্গে দিক। দুঃস্বপ্নের শুরু মায়ের অসুস্থতা দিয়ে। এখান ওখান করে শেষ পর্যন্ত কুর্মিটোলা হাসপাতালে পৌছালাম, ইমারজেন্সি-তে ওদের প্রশ্নের জবাব দিতে দিতেই মেইল এল, আম্মার COVID-19 পজিটিভ। সব ভয় ভুলে, চলে গেলাম রোগি ভরা ওয়ার্ডে, বেডে শুইয়ে দিলাম, ডায়ালাইসিস করে দিলাম। চলে আসার সময়, একবার মনে হল, এর পর আর দেখা হবে না। দু'দিন পর, ICU তে যায়গা পাওয়ায়, একটু নিশ্চিন্তে অফিসের একটা মিটিং এ জয়েন করলাম। মাঝামাঝি সময় ফোন এল, আম্মু সব চিকিৎসার বাইরে চলে গেছে, আম্মুকে নিয়ে আসতে হবে। সেদিন সেপ্টেম্বরের ৩০, ২০২০। ঈদের আর দুদিন বাকি। পরদিন বানানি কবরস্থানে মাটি চাপা দিলাম। সেই সময় প্রচন্ড বৃষ্টি, আগের দিন থেকেই স্বাভাবিকভাবেই চলছিলাম, কিন্তু কেন যেন এখন আর পারলাম না, সকল আত্মসংযমের বাধ ভেঙ্গে চুরে, বুকের ভেতরটা দুমড়েমুচড়ে কান্না এল।  বৃষ্টির পানি, মুখের মাস্ক, পিপিই সব মিলে সেই চোখের পানি লুকিয়েই ছিল হয়তো, খেয়াল করা হয়নি। বা সেই অবস্থায় ও ছিলাম না।  এর পর ১৪ দিনের কোয়ারেন্টিন, বাসার সবার। এর মাঝেই বাবার পাতলা পায়খা...