Skip to main content

বন মানুষের গল্প

বাগানের পাশেই জঙ্গল,
দূরত্বটা শুধু বজায় থাকে মাঝের পরিখা গুলোয়।

বাঁদরের দল সেই পরিখার উপরে সাকো বানায়,
সেই সাকোতে বাগান আর জংলা মিলে-মিশে একাকার হয়ে যায়।

ডালপালা ছড়ানো মহীরুহ,
তার পাশের আগাছার চারাগাছ,
সবখানেই বাঁদরের উৎপাত।
শকটের সুতীব্র চিৎকারে,  ভেঙ্গে চুরমার হয় নীরবতা।
তবু, বুনো-ঘ্রাণ মিশে থাকে ধোঁয়াশার কুণ্ডলীতে।

পেছনের প্রতীক্ষা ফেলে রেখে,
ছেলেটি উল্টো হাটে।
শীতল ঠোঁটে উষ্ণতা দেয়,
মুঠোয় ভরা, খুচরো পাথর।

জালের গায়ে বিচিত্র সব ভাবনা আঁকে।
সময় গুলো, কুড়িয়ে পাওয়া।

প্রতীক্ষার ব্যস্ততায়, বাঁদরের দল পথে ফেলে যায়।
ছেলেটি বেশ যত্ন নিয়েই সে সব কুড়িয়ে বেড়ায়।
অখণ্ড অবসরের বুনো জীবনে,
সময় কুড়িয়ে সময় কাটে।

অসময়ে, কিছুটা সময়,
খুচরো...
যেগুলো এমনিতেই নষ্ট হয়ে যায়...
প্রাণপণে সেটুকুই খুঁজে বেড়ানো,
এর চে' বেশি কিছু চাওয়া নেই, নেই কোন প্রত্যাশা।

আর থাকার মাঝে, আছে কিছু স্বপ্ন।
বন মানুষের বুনো স্বপ্ন।
চাইলে,
সেটিতে ভাগ আছে তবে দায় নেই।

কোন একদিন, হয়তো,
কোন অভিযাত্রী খুঁজে পাবে কোন গুহাচিত্র।
পুথি-বদ্ধ, আধা ক্ষয়ে যাওয়া ভাবনা গুলো।

ভাবনাগুলো, আবারও অমরত্বের জানান দেবে।

যদিও শিল্পী হারিয়ে গেছে বিস্মৃতির অতলে,
স্বপ্ন গুলো, ঠিকই থেকে যায়...

Comments

Popular posts from this blog

জেনারেশন গ্যাপ

জেনারেশন এ পরিবর্তন আসে অবশ্যম্ভাবী হয়ে। এর কোন ব্যতিক্রম নাই। কেউ চাক বা না চাক এই প্রক্রিয়া চলবেই। ভাল লাগুক বা মন্দ লাগুক কেউ সময় কে থামাতে পারবে না। এর মধ্যে বিতর্ক এসে যায় ভাল পরিবর্তন আর মূল্যবোধের নিম্নগামীতা নিয়ে। কিন্তু আমি সেসব নিয়েও কথা বলছি না। আমি বলছি কারণ যুগে যুগে সব মানুষের অপ্ত বাক্য ‘ দুনিয়াটা রসাতলে গেল ’। আমার দাদা আমার দাদী কে ভীষণ ভালোবাসতেন এবং তার মৃত্যুশোকে সন্ন্যাসী হন। তিনি তখন অবশ্য ছিলেন যুব-সমাজ রসাতলে যাবার অন্যতম উদাহরণ। এখন অবিশ্বাস্য লাগতেই পারে কিন্তু তখন কেউ তাকে ছেড়ে কথা বলেনি। আমার বাবা রবীন্দ্র সঙ্গীত এর ভীষণ ভক্ত ছিল কিন্তু তার সময় এটা ছিল সঙ্গীত এর নামে অশ্লীলতা। আব্বুকেও সিনেমা হলে সিনেমা দেখাতে যাবার জন্য অসংখ্যবার শুনতে হয়েছে যুব-সমাজ রসাতলে গেল। এসব সিনেমা কে এখন আমরা আর্ট পিস এর সম্মান দেই। এখন সবার গা-জ্বালা করা একটা সর্বনাম হল ডিজুস জেনারেশন বা আধুনিক ইয়ো পোলাপান। সবার মত অনুযায়ী তাদের কোন শেকড়ই নাই এবং এরা অন্ধভাবে পশ্চিমা সভ্যতা অনুকরণ ও অনুসরণ করে। কিন্তু সময় যখন সব বদলায় তখন সময় এর সাথে যুদ্ধ করা; আমি ঠিক কিন্...

Happy and (slightly) Drunk Family...

দুঃসময় বা দুঃস্বপ্নের সময়...

কেন যেন মনে হচ্ছে দুঃস্বপ্ন দেখছি, আর প্রচন্ড অসহায় হয়ে চাচ্ছি, কেউ আমার ঘুমটা এক ঝটকায় ভেঙ্গে দিক। দুঃস্বপ্নের শুরু মায়ের অসুস্থতা দিয়ে। এখান ওখান করে শেষ পর্যন্ত কুর্মিটোলা হাসপাতালে পৌছালাম, ইমারজেন্সি-তে ওদের প্রশ্নের জবাব দিতে দিতেই মেইল এল, আম্মার COVID-19 পজিটিভ। সব ভয় ভুলে, চলে গেলাম রোগি ভরা ওয়ার্ডে, বেডে শুইয়ে দিলাম, ডায়ালাইসিস করে দিলাম। চলে আসার সময়, একবার মনে হল, এর পর আর দেখা হবে না। দু'দিন পর, ICU তে যায়গা পাওয়ায়, একটু নিশ্চিন্তে অফিসের একটা মিটিং এ জয়েন করলাম। মাঝামাঝি সময় ফোন এল, আম্মু সব চিকিৎসার বাইরে চলে গেছে, আম্মুকে নিয়ে আসতে হবে। সেদিন সেপ্টেম্বরের ৩০, ২০২০। ঈদের আর দুদিন বাকি। পরদিন বানানি কবরস্থানে মাটি চাপা দিলাম। সেই সময় প্রচন্ড বৃষ্টি, আগের দিন থেকেই স্বাভাবিকভাবেই চলছিলাম, কিন্তু কেন যেন এখন আর পারলাম না, সকল আত্মসংযমের বাধ ভেঙ্গে চুরে, বুকের ভেতরটা দুমড়েমুচড়ে কান্না এল।  বৃষ্টির পানি, মুখের মাস্ক, পিপিই সব মিলে সেই চোখের পানি লুকিয়েই ছিল হয়তো, খেয়াল করা হয়নি। বা সেই অবস্থায় ও ছিলাম না।  এর পর ১৪ দিনের কোয়ারেন্টিন, বাসার সবার। এর মাঝেই বাবার পাতলা পায়খা...