Skip to main content

বিপ্লব

১। অতঃপর তাহারা কহিল, এই কার্য আমাদের নহে।
২। কসম মানবজন্মের, যা তোমাদের করেছে সৃষ্টির সেরা এবং দিয়েছে বিবেচনা শক্তি।
৩। আপনি কি জানেন না ভারতবর্ষের ইতিহাস?
৪। সাধারণ মানুষ ছিল রাজনীতি হতে দূরে এবং যুদ্ধ হতো শুধুই রাজ-সেনাদলের মধ্যে।
৫। বিনিময়ে তারা পেয়েছিল নীলচাষের মতন অভিশাপ।
৬। এবং কেউ কেউ বলে ওদের আন্দোলনে আমাদের অংশগ্রহণ নাই।
৭। আভ্যন্তরীণ কোন্দল ভারত-জাতীকে করেছিল দুর্বল বহিঃশত্রুর মোকাবেলায়; এবং এনেছিলো ব্রিটিশ শাসন।
৮। আপনি নিশ্চয়ই অবগত আছেন ভারত-বিভাগ সম্পর্কে, যা ছিল শাসকদের সিদ্ধান্ত এবং সাধারণ মানুষকে বাধ্য করেছিল জন্মস্থান ছেড়ে যেতে।
৯। নিশ্চয়ই ব্যক্তিগত শত্রুতা জাতিগত-ভাবে ক্ষতিকর।
১০। হে বান্দাসকল, কসম তোমাদের; তোমাদের সামনে রয়েছে এক কঠিন পরীক্ষা।
১১। তোমাদের যাদের রয়েছে বিবেচনা (এবং জ্ঞান) তারা অবশ্যই ভুলে যাবে ব্যক্তিগত মতানৈক্য এবং করবে আরও শক্তিশালী, আন্দোলনকে।
১২। নিশ্চয়ই তোমার জানা আছে প্রতিটি পদক্ষেপ, ঘরের শত্রুর।
১৩। এবং যাকে পরাস্ত করার সুযোগ পাবে তুমি ভবিষ্যতেও, যদি পাও বিজয় বহিঃশত্রুর আক্রমণের বিরুদ্ধে।
১৪। হে বান্দাসকল, কসম মানবজাতির ইতিহাসের, ক্ষমতা সর্বদাই মানুষকে করে অন্ধ এবং তাকে করে অবিবেচক।
১৫। তুমি কি জান জর্জ অরওয়েল-এর নাম? যিনি বলে গেছেন রাশান জাতির গল্প এবং বলেছেন কিভাবে বিপ্লবের নেতারা একে একে নিমজ্জিত হয়েছিল ক্ষমতার মোহে।
১৬। তুমি কি অস্বীকার কর তাদের অন্ধত্বের কথা!
১৭। নিশ্চয়ই জানবে ক্ষমতার মোহ থেকে মুক্ত নয় সবচেয়ে সেরা তত্ত্বের অনুসারী-গনও। (কারণ তাদেরও রয়েছে মানবীয় ত্রুটিসমুহ)
১৮। হে বান্দাসকল, বিবর্তন তোমাকে দিয়েছে বিবেচনা আর তোমাকে দিয়েছে জ্ঞান ইতিহাস থেকে শিক্ষা নেবার।
১৯। সুতরাং কিরূপে তাহারা দাবি করে এই কার্য তাহাদের নয়, যখন তাহারাও এই মানবজাতিরই অন্তর্গত।
২০। ক্ষমতার মোহে পথভ্রষ্ট নেতা-গনের কাছে কিরূপে তাহারা সমর্পণ করে দায়িত্বের!
২১। তবে তারা কি এতই অবিবেচক যে দাবি করে সকল দায়িত্ব সরকারের, তাদের নয়!
২২। এবং এভাবেই তারা পাশ কাটিয়ে যায়।
২৩। এবং তারা জানে না তারা এভাবেই ডেকে আনছে ধংস, নিজেদেরই।
২৪। হে বান্দাসকল তোমাদের আছে সুবিবেচনা এবং তোমাদের আছে আলোর পথের সন্ধান।
২৫। অতএব: স্বীয় কার্য তোমরা এড়াইয়া চলিও না।
২৬। এখনই নাও পদক্ষেপ, চালাইয়া যাও যুদ্ধ। (আন্দোলন)
২৭। নিশ্চয়ই জানবে তোমাদের জন্য আছে পুরষ্কার, একটি সুন্দর ভবিষ্যৎ।

Comments

Popular posts from this blog

জেনারেশন গ্যাপ

জেনারেশন এ পরিবর্তন আসে অবশ্যম্ভাবী হয়ে। এর কোন ব্যতিক্রম নাই। কেউ চাক বা না চাক এই প্রক্রিয়া চলবেই। ভাল লাগুক বা মন্দ লাগুক কেউ সময় কে থামাতে পারবে না। এর মধ্যে বিতর্ক এসে যায় ভাল পরিবর্তন আর মূল্যবোধের নিম্নগামীতা নিয়ে। কিন্তু আমি সেসব নিয়েও কথা বলছি না। আমি বলছি কারণ যুগে যুগে সব মানুষের অপ্ত বাক্য ‘ দুনিয়াটা রসাতলে গেল ’। আমার দাদা আমার দাদী কে ভীষণ ভালোবাসতেন এবং তার মৃত্যুশোকে সন্ন্যাসী হন। তিনি তখন অবশ্য ছিলেন যুব-সমাজ রসাতলে যাবার অন্যতম উদাহরণ। এখন অবিশ্বাস্য লাগতেই পারে কিন্তু তখন কেউ তাকে ছেড়ে কথা বলেনি। আমার বাবা রবীন্দ্র সঙ্গীত এর ভীষণ ভক্ত ছিল কিন্তু তার সময় এটা ছিল সঙ্গীত এর নামে অশ্লীলতা। আব্বুকেও সিনেমা হলে সিনেমা দেখাতে যাবার জন্য অসংখ্যবার শুনতে হয়েছে যুব-সমাজ রসাতলে গেল। এসব সিনেমা কে এখন আমরা আর্ট পিস এর সম্মান দেই। এখন সবার গা-জ্বালা করা একটা সর্বনাম হল ডিজুস জেনারেশন বা আধুনিক ইয়ো পোলাপান। সবার মত অনুযায়ী তাদের কোন শেকড়ই নাই এবং এরা অন্ধভাবে পশ্চিমা সভ্যতা অনুকরণ ও অনুসরণ করে। কিন্তু সময় যখন সব বদলায় তখন সময় এর সাথে যুদ্ধ করা; আমি ঠিক কিন্...

দুঃসময় বা দুঃস্বপ্নের সময়...

কেন যেন মনে হচ্ছে দুঃস্বপ্ন দেখছি, আর প্রচন্ড অসহায় হয়ে চাচ্ছি, কেউ আমার ঘুমটা এক ঝটকায় ভেঙ্গে দিক। দুঃস্বপ্নের শুরু মায়ের অসুস্থতা দিয়ে। এখান ওখান করে শেষ পর্যন্ত কুর্মিটোলা হাসপাতালে পৌছালাম, ইমারজেন্সি-তে ওদের প্রশ্নের জবাব দিতে দিতেই মেইল এল, আম্মার COVID-19 পজিটিভ। সব ভয় ভুলে, চলে গেলাম রোগি ভরা ওয়ার্ডে, বেডে শুইয়ে দিলাম, ডায়ালাইসিস করে দিলাম। চলে আসার সময়, একবার মনে হল, এর পর আর দেখা হবে না। দু'দিন পর, ICU তে যায়গা পাওয়ায়, একটু নিশ্চিন্তে অফিসের একটা মিটিং এ জয়েন করলাম। মাঝামাঝি সময় ফোন এল, আম্মু সব চিকিৎসার বাইরে চলে গেছে, আম্মুকে নিয়ে আসতে হবে। সেদিন সেপ্টেম্বরের ৩০, ২০২০। ঈদের আর দুদিন বাকি। পরদিন বানানি কবরস্থানে মাটি চাপা দিলাম। সেই সময় প্রচন্ড বৃষ্টি, আগের দিন থেকেই স্বাভাবিকভাবেই চলছিলাম, কিন্তু কেন যেন এখন আর পারলাম না, সকল আত্মসংযমের বাধ ভেঙ্গে চুরে, বুকের ভেতরটা দুমড়েমুচড়ে কান্না এল।  বৃষ্টির পানি, মুখের মাস্ক, পিপিই সব মিলে সেই চোখের পানি লুকিয়েই ছিল হয়তো, খেয়াল করা হয়নি। বা সেই অবস্থায় ও ছিলাম না।  এর পর ১৪ দিনের কোয়ারেন্টিন, বাসার সবার। এর মাঝেই বাবার পাতলা পায়খা...