Skip to main content

ফুলবাড়ীর চেম্বার




অনেক আগের নিজেদের আড্ডা নিয়ে লিখা। তবে শেষ হবার আগেই কোন এক জন্মদিনে এক বন্ধুর উপর এক রাশ অভিমানের সম্পুর্ন ছাপ পরে গিয়েছিল। বাকি সবাই মিলে ঐ দোস্তকে বিশাল ঝাড়ি দেবা হইসিল। তবে সেই বন্ধুবর এখনও বর্তমান। আর বাকিরা কালের স্রোতে অনেকটাই ফিকে।



ফুলবাড়ীর চেম্বার,
আমিও যে মেম্বার
কলেজের স্বর্নালী দিন।
সিগারেট হতে ধরে,
চুটিয়ে আড্ডা মেরে
দেখে যাই স্বপ্ন রঙ্গিন।

কখনো বা সক্কাল
কখনো ভর দুপুর,
কখনো পড়ন্ত বিকেল।
আমরা মিলে সবাই,
হিসেব মিলিয়ে যাই
ক'টায় এবার হবে ফেল।

বহু বিল পাশ হয়,
আমাদের আড্ডায়
সবাই তো কথা রাখে না।
ও যদি না রাখে
আমি কেন রাখব
এই তো, সবার ধারনা।

অপমান অবিচার
মানুষ, না গণ্ডার!!!
কেউ কিছু গায়ে মাখে না।
প্রটেস্ট করতে গেলে
সক্কলে মিলে বলে,
"ও কাজ ভুলেও কোরো না"।

পাশ হয় কত বিল
যার সাথে বেশি মিল
সেই তো রাখে না কথা
একটু জনপ্রিয়তা
কে না পেতে চায়
কেউ পায়, পাক না, ব্যাথা।

কারো মুখে সারাক্ষন
চেনা সেই অঞ্জন
ভরসা পাচ্ছি না কোন।
কিন্তু বন্ধু হায়,
জানতে যে মন চায়।
  (তোর) ভরসা কি ছিল কখনো।

এই তো, আড্ডাটা
তবুও যে যেতে হয়
বন্ধু বলতে এ কটাই
কি করে বদলে যায়
এক এক জনের রঙ
এই ভেবে সময় কাটাই।










Comments

Popular posts from this blog

জেনারেশন গ্যাপ

জেনারেশন এ পরিবর্তন আসে অবশ্যম্ভাবী হয়ে। এর কোন ব্যতিক্রম নাই। কেউ চাক বা না চাক এই প্রক্রিয়া চলবেই। ভাল লাগুক বা মন্দ লাগুক কেউ সময় কে থামাতে পারবে না। এর মধ্যে বিতর্ক এসে যায় ভাল পরিবর্তন আর মূল্যবোধের নিম্নগামীতা নিয়ে। কিন্তু আমি সেসব নিয়েও কথা বলছি না। আমি বলছি কারণ যুগে যুগে সব মানুষের অপ্ত বাক্য ‘ দুনিয়াটা রসাতলে গেল ’। আমার দাদা আমার দাদী কে ভীষণ ভালোবাসতেন এবং তার মৃত্যুশোকে সন্ন্যাসী হন। তিনি তখন অবশ্য ছিলেন যুব-সমাজ রসাতলে যাবার অন্যতম উদাহরণ। এখন অবিশ্বাস্য লাগতেই পারে কিন্তু তখন কেউ তাকে ছেড়ে কথা বলেনি। আমার বাবা রবীন্দ্র সঙ্গীত এর ভীষণ ভক্ত ছিল কিন্তু তার সময় এটা ছিল সঙ্গীত এর নামে অশ্লীলতা। আব্বুকেও সিনেমা হলে সিনেমা দেখাতে যাবার জন্য অসংখ্যবার শুনতে হয়েছে যুব-সমাজ রসাতলে গেল। এসব সিনেমা কে এখন আমরা আর্ট পিস এর সম্মান দেই। এখন সবার গা-জ্বালা করা একটা সর্বনাম হল ডিজুস জেনারেশন বা আধুনিক ইয়ো পোলাপান। সবার মত অনুযায়ী তাদের কোন শেকড়ই নাই এবং এরা অন্ধভাবে পশ্চিমা সভ্যতা অনুকরণ ও অনুসরণ করে। কিন্তু সময় যখন সব বদলায় তখন সময় এর সাথে যুদ্ধ করা; আমি ঠিক কিন্...

দুঃসময় বা দুঃস্বপ্নের সময়...

কেন যেন মনে হচ্ছে দুঃস্বপ্ন দেখছি, আর প্রচন্ড অসহায় হয়ে চাচ্ছি, কেউ আমার ঘুমটা এক ঝটকায় ভেঙ্গে দিক। দুঃস্বপ্নের শুরু মায়ের অসুস্থতা দিয়ে। এখান ওখান করে শেষ পর্যন্ত কুর্মিটোলা হাসপাতালে পৌছালাম, ইমারজেন্সি-তে ওদের প্রশ্নের জবাব দিতে দিতেই মেইল এল, আম্মার COVID-19 পজিটিভ। সব ভয় ভুলে, চলে গেলাম রোগি ভরা ওয়ার্ডে, বেডে শুইয়ে দিলাম, ডায়ালাইসিস করে দিলাম। চলে আসার সময়, একবার মনে হল, এর পর আর দেখা হবে না। দু'দিন পর, ICU তে যায়গা পাওয়ায়, একটু নিশ্চিন্তে অফিসের একটা মিটিং এ জয়েন করলাম। মাঝামাঝি সময় ফোন এল, আম্মু সব চিকিৎসার বাইরে চলে গেছে, আম্মুকে নিয়ে আসতে হবে। সেদিন সেপ্টেম্বরের ৩০, ২০২০। ঈদের আর দুদিন বাকি। পরদিন বানানি কবরস্থানে মাটি চাপা দিলাম। সেই সময় প্রচন্ড বৃষ্টি, আগের দিন থেকেই স্বাভাবিকভাবেই চলছিলাম, কিন্তু কেন যেন এখন আর পারলাম না, সকল আত্মসংযমের বাধ ভেঙ্গে চুরে, বুকের ভেতরটা দুমড়েমুচড়ে কান্না এল।  বৃষ্টির পানি, মুখের মাস্ক, পিপিই সব মিলে সেই চোখের পানি লুকিয়েই ছিল হয়তো, খেয়াল করা হয়নি। বা সেই অবস্থায় ও ছিলাম না।  এর পর ১৪ দিনের কোয়ারেন্টিন, বাসার সবার। এর মাঝেই বাবার পাতলা পায়খা...