Skip to main content

ভুল সময়ে ভুল স্বপ্ন



মাঝে মাঝে, জেগে উঠতে ইচ্ছে করে।
ইচ্ছে করে, গা ঝাড়া দেই,
হাটতে থাকি।...

ছকে বাধা বেচে থাকা কাটিয়ে উঠি।
কাটিয়ে উঠি, আনমনা ভাব,
হারিয়ে থাকা...

ভুলে থাকার চেষ্টাটাকে ভুলে গিয়ে,
ভালো থাকার প্রচেষ্টাটাও বন্ধ রেখে,
আঁকড়ে ধরি ভালো লাগার অনুভূতি,
আর একটি বার।

মাঝে মাঝে, ইচ্ছে গুলো উপচে পরে।
উপচে পরা ভাবনারা হয়
বিস্ফোরিত...

ভর করে এক অস্থিরতা,
সকল কাজে।
অস্বস্তিকর অনুভূতির সময়টুকু
এগোয় খুবই ধীর গতিতে।

পাঁচ মিনিটের বিরতিতে,
চায়ের জন্য কোনার দোকান,
নেই এখন আর আগের স্থানে।
পরিচিত মুখের এখন,
হয় না দেখা।

সময় লাগে, সামলে ওঠায়,
আমার আমায় সময় নিয়ে,
দিতে থাকি, শুধুই প্রবোধ।
সময় এখন বদলে গেছে।
বদলে গেছে জীবনপথের পটভূমি।
আগের মত একলা, একা,
নেই যে আমি।


জীবন মানে এখন শুধুই এগিয়ে চলা,
মাঝে মাঝে, আকাশছোঁয়া স্বপ্ন দেখা,
একটু পরে, স্বপ্ন ভাঙ্গা।

তিন নম্বর কৃষ্ণচূড়ায় এখন যে আর
ফোটে না ফুল, তেমন করে,
আগুন রাঙ্গা।

- (১৫ই বৈশাখ, ১৪২২)




Comments

Popular posts from this blog

জেনারেশন গ্যাপ

জেনারেশন এ পরিবর্তন আসে অবশ্যম্ভাবী হয়ে। এর কোন ব্যতিক্রম নাই। কেউ চাক বা না চাক এই প্রক্রিয়া চলবেই। ভাল লাগুক বা মন্দ লাগুক কেউ সময় কে থামাতে পারবে না। এর মধ্যে বিতর্ক এসে যায় ভাল পরিবর্তন আর মূল্যবোধের নিম্নগামীতা নিয়ে। কিন্তু আমি সেসব নিয়েও কথা বলছি না। আমি বলছি কারণ যুগে যুগে সব মানুষের অপ্ত বাক্য ‘ দুনিয়াটা রসাতলে গেল ’। আমার দাদা আমার দাদী কে ভীষণ ভালোবাসতেন এবং তার মৃত্যুশোকে সন্ন্যাসী হন। তিনি তখন অবশ্য ছিলেন যুব-সমাজ রসাতলে যাবার অন্যতম উদাহরণ। এখন অবিশ্বাস্য লাগতেই পারে কিন্তু তখন কেউ তাকে ছেড়ে কথা বলেনি। আমার বাবা রবীন্দ্র সঙ্গীত এর ভীষণ ভক্ত ছিল কিন্তু তার সময় এটা ছিল সঙ্গীত এর নামে অশ্লীলতা। আব্বুকেও সিনেমা হলে সিনেমা দেখাতে যাবার জন্য অসংখ্যবার শুনতে হয়েছে যুব-সমাজ রসাতলে গেল। এসব সিনেমা কে এখন আমরা আর্ট পিস এর সম্মান দেই। এখন সবার গা-জ্বালা করা একটা সর্বনাম হল ডিজুস জেনারেশন বা আধুনিক ইয়ো পোলাপান। সবার মত অনুযায়ী তাদের কোন শেকড়ই নাই এবং এরা অন্ধভাবে পশ্চিমা সভ্যতা অনুকরণ ও অনুসরণ করে। কিন্তু সময় যখন সব বদলায় তখন সময় এর সাথে যুদ্ধ করা; আমি ঠিক কিন্...

দুঃসময় বা দুঃস্বপ্নের সময়...

কেন যেন মনে হচ্ছে দুঃস্বপ্ন দেখছি, আর প্রচন্ড অসহায় হয়ে চাচ্ছি, কেউ আমার ঘুমটা এক ঝটকায় ভেঙ্গে দিক। দুঃস্বপ্নের শুরু মায়ের অসুস্থতা দিয়ে। এখান ওখান করে শেষ পর্যন্ত কুর্মিটোলা হাসপাতালে পৌছালাম, ইমারজেন্সি-তে ওদের প্রশ্নের জবাব দিতে দিতেই মেইল এল, আম্মার COVID-19 পজিটিভ। সব ভয় ভুলে, চলে গেলাম রোগি ভরা ওয়ার্ডে, বেডে শুইয়ে দিলাম, ডায়ালাইসিস করে দিলাম। চলে আসার সময়, একবার মনে হল, এর পর আর দেখা হবে না। দু'দিন পর, ICU তে যায়গা পাওয়ায়, একটু নিশ্চিন্তে অফিসের একটা মিটিং এ জয়েন করলাম। মাঝামাঝি সময় ফোন এল, আম্মু সব চিকিৎসার বাইরে চলে গেছে, আম্মুকে নিয়ে আসতে হবে। সেদিন সেপ্টেম্বরের ৩০, ২০২০। ঈদের আর দুদিন বাকি। পরদিন বানানি কবরস্থানে মাটি চাপা দিলাম। সেই সময় প্রচন্ড বৃষ্টি, আগের দিন থেকেই স্বাভাবিকভাবেই চলছিলাম, কিন্তু কেন যেন এখন আর পারলাম না, সকল আত্মসংযমের বাধ ভেঙ্গে চুরে, বুকের ভেতরটা দুমড়েমুচড়ে কান্না এল।  বৃষ্টির পানি, মুখের মাস্ক, পিপিই সব মিলে সেই চোখের পানি লুকিয়েই ছিল হয়তো, খেয়াল করা হয়নি। বা সেই অবস্থায় ও ছিলাম না।  এর পর ১৪ দিনের কোয়ারেন্টিন, বাসার সবার। এর মাঝেই বাবার পাতলা পায়খা...