Skip to main content

কথা...

আমার গোপন কিছু কথা জমাট, বুকেরই ভিতর,
তোকে বলব, তুই শুনিস, দু’চোখ বন্ধ করে তোর।
তবু অশ্রু যদি আসে চোখে, আমায় দেখাস না,
তোর চোখে পানি দেখলে আমার বলা হবে না।

এই চোখের পানি, বড়ই দামি, আমার জন্যে নয়,
তাই অকারনে ঝরতে দেখলে বড়ই কষ্ট হয়।
এতো দামি জিনিস কি তার জন্যে ফেলা যায়!
যে একটি ফোঁটা চোখের জলেই হাবু-ডুবু খায়।
তুই কেমন করে করবি রে বল আমার মন 
তোর আকাশ ছোবার স্বপ্ন আমার দেখতে লাগে ভয়...

আমি জানি, তোর জগৎটা যে এখনো রঙ্গিন,
সোনালী রোদ খেলা করে সেথায় সারাদিন।
দিন পোহালে যখন যে ওই সূর্য ডুবে যায়...
জোছনা এসে খেলা করে আমার ভাঙ্গা নায়।।
সেথা পথের ধারে বুনোফুলের সুবাস মাখা রয়...
তুই দেখিস শুধু সেই সুবাসে, আমারই বিষ্ময়।
যদিও তুই জানিস, আমি বহুদূরে তোর,
তবু ইচ্ছে মতোন কাছে টানিস, কল্পনার ভেতর।
তুই কেমন করে করবি রে বল আমার মন জয়?
তোর আকাশ ছোবার স্বপ্ন আমার দেখতে লাগে ভয়...

আমার জগৎ সাদাকালো, রঙের ছোয়া নাই,
আমি কল্পনাতেও রঙ্গিন হতে কেবলই ভয় পাই।
আমায় ঘিরেই আবর্তিত, ভাবনা আমার সব,
জগৎ আমার বাস্তবতার লাগামের উৎসব।
তোর স্বপ্ন দেখা থামে না তো হাজার বাধা ঝড়ে,
স্বপ্ন দেখার আগেই আমার ভাঙ্গার ভয় করে।
আমি তুচ্ছ অতি তুচ্ছ আমার ছোট ছোট সাধ,
আমি পাই শুধু ভয়, পেতে ভালোবাসারই আস্বাদ।।
তুই কেমন করে করবি রে বল আমার মন জয়?
আমার মনের স্থানে পাথর কেবল, পাথর চাপা ভয়।
July 10, 2008.

Print This Page

Popular posts from this blog

জেনারেশন গ্যাপ

জেনারেশন এ পরিবর্তন আসে অবশ্যম্ভাবী হয়ে। এর কোন ব্যতিক্রম নাই। কেউ চাক বা না চাক এই প্রক্রিয়া চলবেই। ভাল লাগুক বা মন্দ লাগুক কেউ সময় কে থামাতে পারবে না। এর মধ্যে বিতর্ক এসে যায় ভাল পরিবর্তন আর মূল্যবোধের নিম্নগামীতা নিয়ে। কিন্তু আমি সেসব নিয়েও কথা বলছি না। আমি বলছি কারণ যুগে যুগে সব মানুষের অপ্ত বাক্য ‘ দুনিয়াটা রসাতলে গেল ’। আমার দাদা আমার দাদী কে ভীষণ ভালোবাসতেন এবং তার মৃত্যুশোকে সন্ন্যাসী হন। তিনি তখন অবশ্য ছিলেন যুব-সমাজ রসাতলে যাবার অন্যতম উদাহরণ। এখন অবিশ্বাস্য লাগতেই পারে কিন্তু তখন কেউ তাকে ছেড়ে কথা বলেনি। আমার বাবা রবীন্দ্র সঙ্গীত এর ভীষণ ভক্ত ছিল কিন্তু তার সময় এটা ছিল সঙ্গীত এর নামে অশ্লীলতা। আব্বুকেও সিনেমা হলে সিনেমা দেখাতে যাবার জন্য অসংখ্যবার শুনতে হয়েছে যুব-সমাজ রসাতলে গেল। এসব সিনেমা কে এখন আমরা আর্ট পিস এর সম্মান দেই। এখন সবার গা-জ্বালা করা একটা সর্বনাম হল ডিজুস জেনারেশন বা আধুনিক ইয়ো পোলাপান। সবার মত অনুযায়ী তাদের কোন শেকড়ই নাই এবং এরা অন্ধভাবে পশ্চিমা সভ্যতা অনুকরণ ও অনুসরণ করে। কিন্তু সময় যখন সব বদলায় তখন সময় এর সাথে যুদ্ধ করা; আমি ঠিক কিন্...

দুঃসময় বা দুঃস্বপ্নের সময়...

কেন যেন মনে হচ্ছে দুঃস্বপ্ন দেখছি, আর প্রচন্ড অসহায় হয়ে চাচ্ছি, কেউ আমার ঘুমটা এক ঝটকায় ভেঙ্গে দিক। দুঃস্বপ্নের শুরু মায়ের অসুস্থতা দিয়ে। এখান ওখান করে শেষ পর্যন্ত কুর্মিটোলা হাসপাতালে পৌছালাম, ইমারজেন্সি-তে ওদের প্রশ্নের জবাব দিতে দিতেই মেইল এল, আম্মার COVID-19 পজিটিভ। সব ভয় ভুলে, চলে গেলাম রোগি ভরা ওয়ার্ডে, বেডে শুইয়ে দিলাম, ডায়ালাইসিস করে দিলাম। চলে আসার সময়, একবার মনে হল, এর পর আর দেখা হবে না। দু'দিন পর, ICU তে যায়গা পাওয়ায়, একটু নিশ্চিন্তে অফিসের একটা মিটিং এ জয়েন করলাম। মাঝামাঝি সময় ফোন এল, আম্মু সব চিকিৎসার বাইরে চলে গেছে, আম্মুকে নিয়ে আসতে হবে। সেদিন সেপ্টেম্বরের ৩০, ২০২০। ঈদের আর দুদিন বাকি। পরদিন বানানি কবরস্থানে মাটি চাপা দিলাম। সেই সময় প্রচন্ড বৃষ্টি, আগের দিন থেকেই স্বাভাবিকভাবেই চলছিলাম, কিন্তু কেন যেন এখন আর পারলাম না, সকল আত্মসংযমের বাধ ভেঙ্গে চুরে, বুকের ভেতরটা দুমড়েমুচড়ে কান্না এল।  বৃষ্টির পানি, মুখের মাস্ক, পিপিই সব মিলে সেই চোখের পানি লুকিয়েই ছিল হয়তো, খেয়াল করা হয়নি। বা সেই অবস্থায় ও ছিলাম না।  এর পর ১৪ দিনের কোয়ারেন্টিন, বাসার সবার। এর মাঝেই বাবার পাতলা পায়খা...