Skip to main content

জীবন এখন যেমন


কৃষ্ণচূড়ায় আগের মত রঙ লাগে না,
রঙ মাখে তাই শেওলা ভরা সবুজ পানি।
তোমার মনে আগের মত দোল জাগে না,
দোলার স্থানে জমছে ঘৃণা, সেটাও জানি।

শব্দগুলো আগের মতোই ছন্দ বাধে, আপনা হতে।
জোর করে সেই ছন্দ ভাঙ্গি।

তোমার পথের এড়িয়ে চলা কুড়িয়ে যাই।
কুড়িয়ে যাই, তোমার যত অবহেলা।
এখন তো আর যায় না দেখা সেই হাসিটা।
যেই হাসিতে রঙ্গিন হত, জীবন চলা।

শব্দগুলো আগের মতোই ছন্দ বাধে, আপনা হতে।
জোর করে সেই ছন্দ ভাঙ্গি।

আমার জীবন এমন হবে, জানাই ছিল।
হয়নি জানা, তোমার জীবন কেমন যাবে।
মনটা আমার আটকে আছে একই স্থানেই।
জীবন যদিও যায় এগিয়ে নিজ স্বভাবে।

শব্দগুলো আগের মতোই ছন্দ বাধে, আপনা হতে।
জোর করে সেই ছন্দ ভাঙ্গি।

তোমার তবু আশ্রয় আছে, ফিরে যাবার।
ভুল হলে, ভুল ভুলে গিয়ে, সহায় নেবার।
আমার আছে শুধুই যে এক মঞ্চ কেবল।
ফেরা মানে অভিনয়ে পাল্টানো ভোল।

শব্দগুলো আগের মতোই ছন্দ বাধে, আপনা হতে।
জোর করে সেই ছন্দ ভাঙ্গি।

লুকিয়ে থাকা অভিনয়ে কষ্ট বাড়ে।
কল্পনারা লাগাম ছিঁড়েই উড়তে পারে।
মনের ভেতর কষ্ট চেপে, হাসতে থাকা,
বুকের ভেতর কান্না জমাট আটকে রাখা।

শব্দগুলো আগের মতোই ছন্দ বাধে, আপনা হতে।
জোর করে সেই ছন্দ ভাঙ্গি।

কষ্ট দেবার কারণ ছিল, কষ্ট পাওয়া।
ভালোবাসায় ঈর্ষা থাকে মজ্জাগত।
এড়িয়ে চলার কারণ ছিল সময় পাওয়া।
যেই সময়ে মুছবে তোমার মনের ক্ষত।

শব্দগুলো আগের মতোই ছন্দ বাধে, আপনা হতে।
জোর করে সেই ছন্দ ভাঙ্গি।

আমার জন্য চেষ্টাতে আপত্তি ঠাসা,
ভুলে যাবার প্রচণ্ড যেই শক্তি তোমার।
জানি, যে নেই কোনভাবেই কোন আশা
অপেক্ষাতেই কেটে যাবে জীবন আমার।

শব্দগুলো আগের মতোই ছন্দ বাধে, আপনা হতে।
জোর করে সেই ছন্দ ভাঙ্গি।

- ( ১৭ই বৈশাখ, ১৪২২)

Comments

Popular posts from this blog

জেনারেশন গ্যাপ

জেনারেশন এ পরিবর্তন আসে অবশ্যম্ভাবী হয়ে। এর কোন ব্যতিক্রম নাই। কেউ চাক বা না চাক এই প্রক্রিয়া চলবেই। ভাল লাগুক বা মন্দ লাগুক কেউ সময় কে থামাতে পারবে না। এর মধ্যে বিতর্ক এসে যায় ভাল পরিবর্তন আর মূল্যবোধের নিম্নগামীতা নিয়ে। কিন্তু আমি সেসব নিয়েও কথা বলছি না। আমি বলছি কারণ যুগে যুগে সব মানুষের অপ্ত বাক্য ‘ দুনিয়াটা রসাতলে গেল ’। আমার দাদা আমার দাদী কে ভীষণ ভালোবাসতেন এবং তার মৃত্যুশোকে সন্ন্যাসী হন। তিনি তখন অবশ্য ছিলেন যুব-সমাজ রসাতলে যাবার অন্যতম উদাহরণ। এখন অবিশ্বাস্য লাগতেই পারে কিন্তু তখন কেউ তাকে ছেড়ে কথা বলেনি। আমার বাবা রবীন্দ্র সঙ্গীত এর ভীষণ ভক্ত ছিল কিন্তু তার সময় এটা ছিল সঙ্গীত এর নামে অশ্লীলতা। আব্বুকেও সিনেমা হলে সিনেমা দেখাতে যাবার জন্য অসংখ্যবার শুনতে হয়েছে যুব-সমাজ রসাতলে গেল। এসব সিনেমা কে এখন আমরা আর্ট পিস এর সম্মান দেই। এখন সবার গা-জ্বালা করা একটা সর্বনাম হল ডিজুস জেনারেশন বা আধুনিক ইয়ো পোলাপান। সবার মত অনুযায়ী তাদের কোন শেকড়ই নাই এবং এরা অন্ধভাবে পশ্চিমা সভ্যতা অনুকরণ ও অনুসরণ করে। কিন্তু সময় যখন সব বদলায় তখন সময় এর সাথে যুদ্ধ করা; আমি ঠিক কিন্...

দুঃসময় বা দুঃস্বপ্নের সময়...

কেন যেন মনে হচ্ছে দুঃস্বপ্ন দেখছি, আর প্রচন্ড অসহায় হয়ে চাচ্ছি, কেউ আমার ঘুমটা এক ঝটকায় ভেঙ্গে দিক। দুঃস্বপ্নের শুরু মায়ের অসুস্থতা দিয়ে। এখান ওখান করে শেষ পর্যন্ত কুর্মিটোলা হাসপাতালে পৌছালাম, ইমারজেন্সি-তে ওদের প্রশ্নের জবাব দিতে দিতেই মেইল এল, আম্মার COVID-19 পজিটিভ। সব ভয় ভুলে, চলে গেলাম রোগি ভরা ওয়ার্ডে, বেডে শুইয়ে দিলাম, ডায়ালাইসিস করে দিলাম। চলে আসার সময়, একবার মনে হল, এর পর আর দেখা হবে না। দু'দিন পর, ICU তে যায়গা পাওয়ায়, একটু নিশ্চিন্তে অফিসের একটা মিটিং এ জয়েন করলাম। মাঝামাঝি সময় ফোন এল, আম্মু সব চিকিৎসার বাইরে চলে গেছে, আম্মুকে নিয়ে আসতে হবে। সেদিন সেপ্টেম্বরের ৩০, ২০২০। ঈদের আর দুদিন বাকি। পরদিন বানানি কবরস্থানে মাটি চাপা দিলাম। সেই সময় প্রচন্ড বৃষ্টি, আগের দিন থেকেই স্বাভাবিকভাবেই চলছিলাম, কিন্তু কেন যেন এখন আর পারলাম না, সকল আত্মসংযমের বাধ ভেঙ্গে চুরে, বুকের ভেতরটা দুমড়েমুচড়ে কান্না এল।  বৃষ্টির পানি, মুখের মাস্ক, পিপিই সব মিলে সেই চোখের পানি লুকিয়েই ছিল হয়তো, খেয়াল করা হয়নি। বা সেই অবস্থায় ও ছিলাম না।  এর পর ১৪ দিনের কোয়ারেন্টিন, বাসার সবার। এর মাঝেই বাবার পাতলা পায়খা...