Skip to main content

স্বীকারোক্তি


আমার মুখের ভাষা আবোল-তাবোল, ইচ্ছেমত দেয় মনে দোল,
বুকের চাওয়া- সুর বসিয়ে গান বানিয়ে যায়।
আমার কলম-খাতায় অশ্রু ঝরে, কখনোবা ক্রোধের আগুন,
কখনোবা মেতে উঠি রং-রসিকতায়।

কেউবা আমায় পাগল বলে, কেউবা বলে ভণ্ড শুধুই।
কেউবা আবার বুক ভরিয়ে দেয় ভালোবাসায়...
কেউবা আবার অপমানে, প্রতিযোগী আমায় মানে,
কেউবা হতে আমার মতন, বুক বাঁধে আশায়...

আমি সত্যি বলি এতো জটিলতা তো নেই আমার মাঝে,
খুব সাধারণ, সবার মতন আমার জীবনকাল।
আমার কষ্ট পেলে কান্না আসে, সুখের ছোয়ায় হেসে উঠি,
বুক চিড়ে দ্যাখ, আমার দেহের রক্তটাও লাল।

মাঝেমাঝে কেউ কখন ছোঁয়ায় ভেবে বসে,
সামনে রেখে দেয় যে টেনে সীমানারই দাগ।
আবার একই কারণে কেউ কেউ অকারণেই কাছে টানে,
অবলীলায় দেয় দিয়ে যে তার সুখেরই ভাগ।

আমার চাওয়া-পাওয়ার ফারাক আছে,
খুবই সহজ ভাবনা যেন,
সব বলে দেই কথার ভাজে,
দেখাইনা ভণিতা কোন।
ভানকে আমার মিথ্যে লাগে, পাপী মনে হয় নিজেকে...
কষ্ট পেলেও সত্য বলি, যে যাই ভাবে ভাবুক লোকে...

কেউবা আমায় পাগল বলে, কেউবা বলে ভণ্ড শুধুই।
কেউবা আবার বুক ভরিয়ে দেয় ভালোবাসায়...
কেউবা আবার অপমানে, প্রতিযোগী আমায় মানে,
কেউবা হতে আমার মতন, বুক বাঁধে আশায়...

আমার বোঝার অনেক ভুলই আছে,
ভুল বোঝাটা খুবই সোজা।
মিথ্যে হয়তো তোর কাছে,
আমার যেটা সত্য বোঝা।
এই বোঝাবুঝির ব্যবধানে অনেক মানুষ দূরে সরে...
কেউ কেউ ভুল ভাঙ্গিয়ে দিয়ে কৃতজ্ঞতা গ্রহণ করে...

মাঝেমাঝে কেউ কখন অসাধারণ ভেবে বসে,
সামনে রেখে দেয় যে টেনে সীমানারই দাগ।
আবার একই কারণে কেউ কেউ অকারণেই কাছে টানে,
অবলীলায় দেয় দিয়ে যে তার সুখেরই ভাগ।

Comments

Popular posts from this blog

জেনারেশন গ্যাপ

জেনারেশন এ পরিবর্তন আসে অবশ্যম্ভাবী হয়ে। এর কোন ব্যতিক্রম নাই। কেউ চাক বা না চাক এই প্রক্রিয়া চলবেই। ভাল লাগুক বা মন্দ লাগুক কেউ সময় কে থামাতে পারবে না। এর মধ্যে বিতর্ক এসে যায় ভাল পরিবর্তন আর মূল্যবোধের নিম্নগামীতা নিয়ে। কিন্তু আমি সেসব নিয়েও কথা বলছি না। আমি বলছি কারণ যুগে যুগে সব মানুষের অপ্ত বাক্য ‘ দুনিয়াটা রসাতলে গেল ’। আমার দাদা আমার দাদী কে ভীষণ ভালোবাসতেন এবং তার মৃত্যুশোকে সন্ন্যাসী হন। তিনি তখন অবশ্য ছিলেন যুব-সমাজ রসাতলে যাবার অন্যতম উদাহরণ। এখন অবিশ্বাস্য লাগতেই পারে কিন্তু তখন কেউ তাকে ছেড়ে কথা বলেনি। আমার বাবা রবীন্দ্র সঙ্গীত এর ভীষণ ভক্ত ছিল কিন্তু তার সময় এটা ছিল সঙ্গীত এর নামে অশ্লীলতা। আব্বুকেও সিনেমা হলে সিনেমা দেখাতে যাবার জন্য অসংখ্যবার শুনতে হয়েছে যুব-সমাজ রসাতলে গেল। এসব সিনেমা কে এখন আমরা আর্ট পিস এর সম্মান দেই। এখন সবার গা-জ্বালা করা একটা সর্বনাম হল ডিজুস জেনারেশন বা আধুনিক ইয়ো পোলাপান। সবার মত অনুযায়ী তাদের কোন শেকড়ই নাই এবং এরা অন্ধভাবে পশ্চিমা সভ্যতা অনুকরণ ও অনুসরণ করে। কিন্তু সময় যখন সব বদলায় তখন সময় এর সাথে যুদ্ধ করা; আমি ঠিক কিন্...

দুঃসময় বা দুঃস্বপ্নের সময়...

কেন যেন মনে হচ্ছে দুঃস্বপ্ন দেখছি, আর প্রচন্ড অসহায় হয়ে চাচ্ছি, কেউ আমার ঘুমটা এক ঝটকায় ভেঙ্গে দিক। দুঃস্বপ্নের শুরু মায়ের অসুস্থতা দিয়ে। এখান ওখান করে শেষ পর্যন্ত কুর্মিটোলা হাসপাতালে পৌছালাম, ইমারজেন্সি-তে ওদের প্রশ্নের জবাব দিতে দিতেই মেইল এল, আম্মার COVID-19 পজিটিভ। সব ভয় ভুলে, চলে গেলাম রোগি ভরা ওয়ার্ডে, বেডে শুইয়ে দিলাম, ডায়ালাইসিস করে দিলাম। চলে আসার সময়, একবার মনে হল, এর পর আর দেখা হবে না। দু'দিন পর, ICU তে যায়গা পাওয়ায়, একটু নিশ্চিন্তে অফিসের একটা মিটিং এ জয়েন করলাম। মাঝামাঝি সময় ফোন এল, আম্মু সব চিকিৎসার বাইরে চলে গেছে, আম্মুকে নিয়ে আসতে হবে। সেদিন সেপ্টেম্বরের ৩০, ২০২০। ঈদের আর দুদিন বাকি। পরদিন বানানি কবরস্থানে মাটি চাপা দিলাম। সেই সময় প্রচন্ড বৃষ্টি, আগের দিন থেকেই স্বাভাবিকভাবেই চলছিলাম, কিন্তু কেন যেন এখন আর পারলাম না, সকল আত্মসংযমের বাধ ভেঙ্গে চুরে, বুকের ভেতরটা দুমড়েমুচড়ে কান্না এল।  বৃষ্টির পানি, মুখের মাস্ক, পিপিই সব মিলে সেই চোখের পানি লুকিয়েই ছিল হয়তো, খেয়াল করা হয়নি। বা সেই অবস্থায় ও ছিলাম না।  এর পর ১৪ দিনের কোয়ারেন্টিন, বাসার সবার। এর মাঝেই বাবার পাতলা পায়খা...